বাংলাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের লাইসেন্স চেক করতে প্রতিষ্ঠানে টাঙানো ডিজিএইচএস লাইসেন্স দেখতে চান। দেখুন প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা মেলে কি না, মেয়াদ পেরিয়ে গেছে কি না, আর সেন্টার যে টেস্ট করছে লাইসেন্সের ক্যাটাগরিতে তা আছে কি না। ডিজিএইচএসের নির্দেশ অনুযায়ী সাইনবোর্ডেও লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ থাকার কথা। কিছু অস্পষ্ট থাকলে জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় বা ডিজিএইচএসের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এই গাইডে 10টি অংশ
সর্বশেষ যাচাই: ২৬ অক্টোবর ২০২৬। এটি সাধারণ নির্দেশনা, আইনি পরামর্শ নয়। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ডিজিএইচএস বা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
রোগী, ডাক্তার, কর্পোরেট ক্লায়েন্ট, এমনকি নতুন অংশীদারেরও কখনো কখনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক সম্পর্কে একটি বিষয় জানা দরকার হয়: লাইসেন্সটি আসল ও চলমান কি না? ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংবাদ প্রতিবেদনে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে বা লাইসেন্সের ক্যাটাগরির বাইরে চলতে দেখা গেছে, তাই প্রশ্নটা যৌক্তিক। চেক করার উপায় এখানে।
১. লাইসেন্স দেখতে চান
বাংলাদেশে প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও হাসপাতালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) লাইসেন্স থাকে। এটি প্রতিষ্ঠানে স্পষ্ট জায়গায় টাঙানো থাকতে হয়: একটি নমুনা ডিজিএইচএস লাইসেন্সে এটি শর্ত, আর ২০২৪ সালের এক ডিজিএইচএস আদেশে প্রধান প্রবেশপথে দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক লাইসেন্স সিস্টেমে তৈরি, স্বাক্ষর লাগে না। এতে থাকে:
- প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা।
- লাইসেন্স নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন কোড।
- ক্যাটাগরি (ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য)।
- অনুমোদনের তারিখ ও মেয়াদ।
- আইনি ভিত্তি: মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২।
২. সাইনবোর্ড দেখুন
ডিজিএইচএস বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংককে সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ লিখতে নির্দেশ দিয়েছে। সাইনবোর্ডে কিছু না থাকলে, বা মেয়াদ পেরিয়ে গেলে, লাইসেন্স দেখতে চান।
৩. মেয়াদ দেখুন
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর। নমুনা লাইসেন্সে লেখা আছে, মেয়াদ শেষের এক মাসের মধ্যে নবায়ন না হলে মেয়াদ শেষের দিন থেকেই বাতিল। তারিখ পেরিয়ে গেলে জিজ্ঞেস করুন নবায়নের আবেদন চলছে কি না, আর প্রমাণ চান।
৪. টেস্টের সঙ্গে ক্যাটাগরি মেলান
বেশিরভাগ মানুষ এই ধাপটাই এড়িয়ে যান। ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায় একটি ক্যাটাগরিতে, যা কোন টেস্ট করা যাবে তা সীমিত করে। একটি নমুনা ক্যাটাগরি-সি প্যাথলজি লাইসেন্সে রক্ত সঞ্চালন ছাড়া সব প্যাথলজি টেস্টের অনুমতি আছে, আর ক্যাটাগরির বাইরে কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলা আছে।
তাই প্রাথমিক প্যাথলজির লাইসেন্স থাকা কোনো সেন্টার যদি সিটি স্ক্যান, ব্লাড ব্যাংক বা উচ্চতর ক্যাটাগরির টেস্টের বিজ্ঞাপন দেয়, লাইসেন্স সেগুলো কভার করে না। মার্চ ২০২৬-এর এক ডিজিএইচএস অভিযানে উচ্চতর ক্যাটাগরির টেস্ট ও অনুমোদনহীন ব্লাড ব্যাংক চালানোর জন্য একটি সেন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে।
৫. নাম ও ঠিকানা মেলান
একটি লাইসেন্স একটি নামে, একটি ঠিকানার জন্য। নমুনা লাইসেন্সে লেখা আছে, অনুমতি ছাড়া নাম, ঠিকানা বা অবস্থান বদলালে লাইসেন্স অবৈধ। নতুন ঠিকানার শাখার জন্য আলাদা লাইসেন্স লাগে।
৬. সন্দেহ থাকলে ডিজিএইচএস থেকে নিশ্চিত হন
কিছু ভুল মনে হলে বা নিশ্চিত হওয়া দরকার হলে (যেমন কোনো ব্যবসায়িক চুক্তির আগে):
- প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাইসেন্স নম্বর নিয়ে জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
- অথবা ডিজিএইচএসের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখায় যোগাযোগ করুন।
- ডিজিএইচএস তার হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার ওয়েবসাইটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকাও প্রকাশ করেছে।
মালিকদের জন্য: লাইসেন্স সহজে যাচাইযোগ্য রাখুন
আপনি সেন্টারের মালিক হলে যাচাই সহজ রাখলে আস্থা বাড়ে:
- প্রবেশপথে বাঁধানো লাইসেন্স; সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ।
- মেয়াদ শেষের আগে নবায়ন, নবায়নের রসিদ সংরক্ষণ।
- শুধু আপনার ক্যাটাগরির অনুমোদিত টেস্ট।
- ওয়েবসাইট ও ছাপা রিপোর্টে লাইসেন্স নম্বর।
লাইসেন্সে নতুন? পড়ুন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স করার নিয়ম আর লাইসেন্স পরিদর্শনে কী দেখা হয়।
হসপিফাই প্রো কোথায় কাজে আসে
হসপিফাই প্রো লাইসেন্স দেয় না বা যাচাই করে না। এটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সেন্টারকে সেভাবেই চলতে সাহায্য করে: রিপোর্টের হেডারে আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্যসহ ডিজিএইচএস লাইসেন্স নম্বর ছাপা হয়, আর থাকে একটি কিউআর কোড যা স্ক্যান করে যে কেউ রিপোর্টটি আসল কি না দেখতে পারেন; প্রতিটি রিপোর্টে থাকে কে কখন যাচাই করেছেন। নতুন শুরু করলে ডায়াগনস্টিক প্ল্যান মাসে Tk 6,500$149।
লাইসেন্স চেকের চেকলিস্ট
- প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স টাঙানো।
- লাইসেন্সের নাম ও ঠিকানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেলে।
- মেয়াদ পেরোয়নি (বা নবায়নের প্রমাণ দেখানো হয়েছে)।
- দেওয়া টেস্ট ও সেবা ক্যাটাগরির মধ্যে।
- সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ।
- সন্দেহ থাকলে সিভিল সার্জন কার্যালয় বা ডিজিএইচএস থেকে নিশ্চিত।
Frequently asked questions
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স কোথায় দেখা যায়?
লাইসেন্স প্রতিষ্ঠানে স্পষ্ট জায়গায় টাঙানো থাকতে হয়; একটি নমুনা ডিজিএইচএস লাইসেন্সে এটি শর্ত হিসেবে আছে, আর ২০২৪ সালের এক ডিজিএইচএস আদেশে প্রধান প্রবেশপথে লাইসেন্স দৃশ্যমান রাখতে বলা হয়েছে। ডিজিএইচএস সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ লিখতেও নির্দেশ দিয়েছে।
লাইসেন্সে কী কী দেখব?
প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, লাইসেন্স নম্বর, ক্যাটাগরি (ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য), অনুমোদনের তারিখ ও মেয়াদ। অনুমতি ছাড়া নাম, ঠিকানা বা অবস্থান বদলালে লাইসেন্স অবৈধ, আর নমুনা লাইসেন্স অনুযায়ী মেয়াদ শেষের এক মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে বাতিল।
লাইসেন্সে কোন টেস্টের অনুমতি আছে কীভাবে বুঝব?
ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায় একটি ক্যাটাগরিতে। একটি নমুনা ক্যাটাগরি-সি প্যাথলজি লাইসেন্সে রক্ত সঞ্চালন ছাড়া সব প্যাথলজি টেস্টের অনুমতি আছে। সেন্টার যদি ক্যাটাগরির বাইরের টেস্ট বা সেবা দেয়, যেমন অনুমোদনহীন ব্লাড ব্যাংক বা ইমেজিং, তা লাইসেন্সের বাইরে।
ডিজিএইচএস থেকে কি লাইসেন্স নিশ্চিত করা যায়?
হ্যাঁ। প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাইসেন্স নম্বর নিয়ে জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় বা ডিজিএইচএসের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখায় যোগাযোগ করুন। ডিজিএইচএস তার হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার ওয়েবসাইটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রকাশ করেছে।
ডাক্তার বা প্রতিষ্ঠান কেন লাইসেন্স চেক করবে?
ডিজিএইচএস ডাক্তারদের শুধু নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি চেম্বার করতে বলেছে, আর যে প্রতিষ্ঠান কর্মী বা রোগীকে টেস্টের জন্য পাঠায় তারা লাইসেন্সহীন সেন্টার ব্যবহার করতে চায় না। চেক করতে কয়েক মিনিট লাগে, পরের ঝামেলা এড়ানো যায়।
