বাংলাদেশে লাইসেন্স পরিদর্শনে দেখা হয় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার তার লাইসেন্সে যা বলা আছে সেভাবে চলছে কি না: বৈধ ও টাঙানো লাইসেন্স; নবায়নের কাগজ, যেমন হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ছাড়পত্র; তালিকার সঙ্গে মিলে এমন ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট আসলে ডিউটিতে আছেন কি না; শুধু লাইসেন্সের ধরনের মধ্যে টেস্ট; মেয়াদ না পেরোনো রিএজেন্ট; দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের স্বাক্ষরসহ রিপোর্ট; আর পরিষ্কার ও নিরাপদ জায়গা। এসব কাগজ ও রেকর্ড গুছিয়ে হালনাগাদ রাখুন, যাতে সেদিন দেখাতে পারেন। নিয়ম ও আদেশ বদলায়, তাই বর্তমান শর্ত ডিজিএইচএস বা আইনজীবীর কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এই গাইডে 7টি অংশ
সর্বশেষ যাচাই: ২৬ অক্টোবর ২০২৬। এটি সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রকাশিত শর্তের সহজ ভাষার সারাংশ, আইনি পরামর্শ নয়। আদেশ বদলায়, তাই ভরসা করার আগে বর্তমান নিয়ম ডিজিএইচএস বা আইনজীবীর কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বেশিরভাগ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পরিদর্শনের কথা ভাবেন যখন দল দরজায় এসে দাঁড়ায়। তখন হারানো কাগজ বা পুরনো কর্মী তালিকা ঠিক করার সময় থাকে না। বাংলাদেশে পরিদর্শন এখন আরও ঘন ঘন হচ্ছে, আর ফলাফল সংবাদে আসছে। এই গাইডে দেওয়া হলো পরিদর্শনে আসলে কী দেখা হয়েছে, আর কোন রেকর্ড তৈরি রাখলে দিনটি সাধারণ থাকে।
এখন কেন জরুরি
দুটি সংখ্যাই সমস্যার মাত্রা বোঝায়। মে ২০২৫-এ দ্য ডেইলি স্টার ডিজিএইচএসের তথ্য জানিয়েছে, সে অর্থবছরে নিবন্ধিত ১৯,৬২৭টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ৯১৪টি, আর ৩৫,৫৯৭টি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ১,৭৯০টি লাইসেন্স নবায়ন করেছে (দ্য ডেইলি স্টার)। শিল্প প্রতিনিধিরা বলেছেন বেশিরভাগই আবেদন করেছেন, আর পরিবেশ ছাড়পত্রে দেরি ও পরিদর্শকের ঘাটতির কথা বলেছেন।
এরপরও ডিজিএইচএসের অভিযান চলছে। মার্চ ২০২৬-এ ঢাকার এক এলাকায় পরিদর্শনের পর স্থগিতাদেশ, বন্ধ আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা হয়েছে (দ্য ডেইলি স্টার)। এই ফলাফলগুলোই পরিদর্শকেরা কী দেখেন তার ভালো চেকলিস্ট।
পরিদর্শনে কী পাওয়া গেছে
মার্চ ২০২৬-এর সেই প্রতিবেদন থেকে, প্রতিষ্ঠানের নাম ছাড়া:
- মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স। একই ভবনের দুটি প্রতিষ্ঠান চলছিল জুন ২০২৫-এ মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্সে।
- বাস্তবের সঙ্গে না মেলা কর্মী তালিকা। একটি হাসপাতালে মাত্র একজন ডাক্তার ডিউটিতে ছিলেন, আর তিনি ডিজিএইচএসে জমা দেওয়া তালিকার ২০ জন ডাক্তারের কাউকেই চেনেন না।
- লাইসেন্সের ধরনের বাইরে টেস্ট। প্রাথমিক টেস্টের লাইসেন্স থাকা একটি সেন্টার উচ্চতর ধরনের টেস্ট করছিল, আর অনুমোদন ছাড়া ব্লাড ব্যাংক চালাচ্ছিল।
- মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ও স্বাক্ষরহীন রিপোর্ট। একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্যাথলজিস্ট বা রেডিওলজিস্ট ছিলেন না, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার হচ্ছিল, আর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের স্বাক্ষর ছাড়া রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল।
- জরুরি বিভাগ নেই ও অনিরাপদ জায়গা। জরুরি বিভাগ না থাকা, অপরিচ্ছন্নতা, আর জেনারেটরের পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার কারণে হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে।
এগুলোর কোনোটি ঠিক করতে আইনজীবী লাগে না। লাগে সত্য ও হালনাগাদ রেকর্ড।
যে রেকর্ড তৈরি রাখবেন
১. লাইসেন্স নিজেই
- বর্তমান বৈধ লাইসেন্স, প্রবেশপথে টাঙানো।
- ডিজিএইচএসের নির্দেশমতো সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ। দেখুন আমাদের গাইড ক্লিনিক যে ডিজিএইচএস নিয়ম প্রায়ই এড়িয়ে যায়।
- নবায়ন চলমান থাকলে আবেদন জমার প্রমাণ।
- আগস্ট ২০২৬-এর আদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে লাইসেন্স দুই বছরের জন্য। পড়ুন দুই বছরের লাইসেন্সে কী বদলাল।
২. নবায়নের কাগজপত্র
বর্তমান কপিগুলো এক ফোল্ডারে রাখুন, কাগজে ও স্ক্যান করে:
- হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স।
- আয়কর সনদ।
- পরিবেশ ছাড়পত্র।
- মাদক নিয়ন্ত্রণ ছাড়পত্র।
এই চারটির কথা দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৫-এর প্রতিবেদনে আছে। আপনার প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী আরও লাগতে পারে (যেমন এক্স-রে যন্ত্র বা ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন), তাই নিজের তালিকা ডিজিএইচএস থেকে মিলিয়ে নিন।
৩. কর্মীর তালিকা ও ডিউটি রোস্টার
- প্রতিটি ডাক্তারের বিএমডিসি নিবন্ধন, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ কর্মীর তালিকা, যা আসলে কারা কাজ করেন তার সঙ্গে মেলে।
- প্রতিদিন কে ডিউটিতে তা দেখানো ডিউটি রোস্টার, বিশেষ করে প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও জরুরি বিভাগের ডাক্তার।
- যাঁরা চলে গেছেন তাঁদের নাম সরান। বাস্তব কর্মীর সঙ্গে না মেলা তালিকা গুরুতর অভিযোগ।
৪. লাইসেন্সের ধরনের মধ্যে টেস্ট
- লাইসেন্সের ধরনের সঙ্গে মেলে এমন টেস্টের তালিকা, এর বাইরে কোনো টেস্ট নয়।
- রোগীদের জন্য মূল্য তালিকা টাঙানো।
- ব্লাড ব্যাংকের মতো বাড়তি সেবা শুরুর আগে অনুমোদন।
৫. ল্যাবের মানের রেকর্ড
- রিএজেন্ট ও কিটের মেয়াদ যাচাই, মেয়াদোত্তীর্ণ স্টক সরিয়ে রেকর্ড।
- প্রতিটি রিপোর্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের যাচাই ও স্বাক্ষরসহ, তারিখ ও সময়সহ।
- যন্ত্রের তালিকা, সার্ভিস ও ক্যালিব্রেশনের রেকর্ড।
৬. রোগীর রেকর্ড ও রেজিস্টার
- রোগী রেজিস্ট্রেশন, বিল ও রসিদ।
- কোন টেস্ট কবে হলো, আর কোন রিপোর্ট কে যাচাই করলেন।
- হাসপাতালের জন্য: ভর্তি, জরুরি রেজিস্টার ও ছাড়পত্রের রেকর্ড।
৭. জায়গা ও নিরাপত্তা
- পরিষ্কার ও নিরাপদ কক্ষ, অক্সিজেন সিলিন্ডার জেনারেটর ও তাপ থেকে দূরে।
- মেডিকেল বর্জ্য নিয়ম অনুযায়ী আলাদা ও ব্যবস্থাপনা।
- লাইসেন্সে লাগলে জরুরি বিভাগ।
প্রতি মাসের নিয়ম করে ফেলুন
কিছু তাড়াহুড়ো করে খুঁজতে না হলে পরিদর্শন সবচেয়ে সহজ। মাসে একবার:
- লাইসেন্স ও ফোল্ডারের প্রতিটি সনদের মেয়াদ দেখুন।
- কর্মীর তালিকা ও ডিউটি রোস্টার হালনাগাদ করুন।
- ল্যাবে রিএজেন্টের মেয়াদ দেখুন।
- এলোমেলোভাবে পাঁচটি রিপোর্ট বেছে দেখুন প্রতিটি যাচাই ও স্বাক্ষরিত কি না।
- ওপরের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো ধরে পুরো জায়গা ঘুরে দেখুন।
প্রতিটি লাইসেন্স ও সনদের জন্য একটি সহজ নবায়ন ক্যালেন্ডার রাখুন, প্রতিটি মেয়াদ শেষের দুই-তিন মাস আগে রিমাইন্ডারসহ।
হসপিফাই প্রো যেখানে সাহায্য করে
সফটওয়্যার লাইসেন্স এনে দিতে পারে না, তবে গোছানো ডিজিটাল রেকর্ড পরিদর্শন অনেক সহজ করে। হসপিফাই প্রো-তে:
- প্রতিটি ল্যাব ও ইমেজিং রিপোর্টে থাকে কে কখন যাচাই করেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের নামসহ ছাপা হয়, আর একটি কিউআর কোড থাকে যা স্ক্যান করে যে কেউ রিপোর্টটি আসল কি না দেখতে পারেন।
- আপনার টেস্টের তালিকা ও দাম বিভাগভিত্তিক এক জায়গায়।
- এইচআর মডিউলে কর্মী, হাজিরা ও ডিউটি রোস্টার রেকর্ড।
- রোগী রেজিস্ট্রেশন, বিল, রসিদ ও দৈনিক ব্যালান্স রেকর্ডে থাকে, তাই কাগজ থেকে রেজিস্টার আবার বানাতে হয় না।
- অডিট লগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও কে করলেন তা রেকর্ড হয়।
হসপিফাই প্রো আপনার লাইসেন্স বা সনদের মেয়াদ মনে করিয়ে দেয় না, তাই আলাদা নবায়ন ক্যালেন্ডার রাখুন। নতুন সেন্টারের জন্য আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার চেকলিস্ট শুরু থেকে সাজানোর কথা বলে, আর ডায়াগনস্টিক প্ল্যান মাসে Tk 6,500$149।
পরিদর্শনের দিনের চেকলিস্ট
- বৈধ লাইসেন্স টাঙানো; সাইনবোর্ডে নম্বর ও মেয়াদ।
- ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, পরিবেশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ছাড়পত্র ফাইলে।
- বিএমডিসি নম্বরসহ কর্মীর তালিকা, যা আসলে কারা কাজ করেন তার সঙ্গে মেলে।
- আজকের ডিউটি রোস্টার, প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও জরুরি ডাক্তারসহ।
- লাইসেন্সের ধরনের মধ্যে টেস্টের তালিকা; মূল্য তালিকা টাঙানো।
- মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট নেই; মেয়াদ যাচাই রেকর্ড।
- প্রতিটি রিপোর্ট যাচাই ও স্বাক্ষরিত।
- ব্লাড ব্যাংকের মতো বাড়তি সেবার অনুমোদন।
- পরিষ্কার ও নিরাপদ জায়গা; অক্সিজেন নিরাপদে রাখা; মেডিকেল বর্জ্য ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা।
- প্রতিটি লাইসেন্স ও সনদের নবায়ন ক্যালেন্ডার।
Frequently asked questions
বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডিজিএইচএস পরিদর্শনে কী দেখা হয়?
প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিদর্শনে দেখা হয়েছে লাইসেন্স ও তার মেয়াদ, জমা দেওয়া তালিকার ডাক্তার-নার্স আসলে আছেন কি না, টেস্ট লাইসেন্সের ধরনের মধ্যে কি না, রিএজেন্টের মেয়াদ আছে কি না, রিপোর্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের স্বাক্ষর আছে কি না, ব্লাড ব্যাংকের মতো সেবার অনুমোদন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আর জায়গার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা।
লাইসেন্স নবায়নে কোন কাগজপত্র লাগে?
দ্য ডেইলি স্টারের মে ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নবায়ন শুরু হয় অনলাইন আবেদনে, তারপর পরিদর্শন, আর জমা দিতে হয় হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ ছাড়পত্র। শর্ত বদলায়, তাই বর্তমান তালিকা ডিজিএইচএস থেকে মিলিয়ে নিন।
লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে কী হয়?
ডিজিএইচএসের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলা প্রতিষ্ঠান স্থগিত বা বন্ধ করা হয়েছে, কোনোটিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাও করেছে। মেয়াদ শেষের আগেই নবায়ন করুন, আর নবায়নের আবেদন জমার প্রমাণ রাখুন।
কর্মীর তালিকা কি সত্যিই মিলিয়ে দেখা হয়?
হ্যাঁ। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে মার্চ ২০২৬-এ ঢাকার এক পরিদর্শনে দেখা যায়, একটি হাসপাতালের ডিউটিরত ডাক্তার জমা দেওয়া তালিকার ২০ জন ডাক্তারের কাউকেই চেনেন না, আর হাসপাতালটি স্থগিত করা হয়। কর্মীর তালিকা সত্য ও হালনাগাদ রাখুন, সঙ্গে ডিউটি রোস্টার যাতে বোঝা যায় কে আসলে কাজ করছেন।
সফটওয়্যার কি লাইসেন্স পরিদর্শনে সাহায্য করে?
সফটওয়্যার লাইসেন্স এনে দিতে পারে না, তবে রেকর্ড দেখানো সহজ করে: কোন রিপোর্ট কে কখন যাচাই করেছেন, আপনার টেস্টের তালিকা, কর্মী ও ডিউটি রোস্টার, রোগীর রেজিস্টার ও বিল। হসপিফাই প্রো এগুলো এক জায়গায় রাখে। তবে এটি লাইসেন্স বা সনদের মেয়াদ মনে করিয়ে দেয় না, তাই আলাদা একটি নবায়ন ক্যালেন্ডার রাখুন।
