বাংলাদেশে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক বা হাসপাতাল চালাতে মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) লাইসেন্স লাগে। আবেদন করতে হয় অনলাইনে ডিজিএইচএসের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) সিস্টেমে, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আর মাদকজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ লাইসেন্সের মতো কাগজসহ। লাইসেন্স দেওয়ার আগে পরিদর্শন দল জায়গা, কর্মী ও যন্ত্রপাতি দেখে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার একটি ক্যাটাগরিতে (যেমন ক্যাটাগরি-সি) লাইসেন্স পায়, যা কোন টেস্ট করা যাবে তা ঠিক করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর। আবেদনের আগে বর্তমান শর্ত ডিজিএইচএস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এই গাইডে 9টি অংশ
সর্বশেষ যাচাই: ২৬ অক্টোবর ২০২৬। এটি আইন, একটি নমুনা ডিজিএইচএস লাইসেন্স ও সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহজ ভাষার গাইড, আইনি পরামর্শ নয়। শর্ত ও ফি বদলায়, তাই আবেদনের আগে সবকিছু ডিজিএইচএস (অথবা আইনজীবী বা পরামর্শক) থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
বাংলাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতাল খুলতে একজন রোগীও দেখার বা একটি টেস্টও করার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) লাইসেন্স লাগে। এই গাইডে ধাপে ধাপে লাইসেন্স করার নিয়ম দেওয়া হলো।
কোন আইনে লাইসেন্স
বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রিত হয় মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ দিয়ে। একটি বেসরকারি প্যাথলজি সেন্টারের নমুনা লাইসেন্সে লেখা আছে, এটি এই অর্ডিন্যান্সের ১০(৪) ধারায় দেওয়া। অর্ডিন্যান্সে হাসপাতালের জন্য রোগীপ্রতি জায়গা, অপারেশন থিয়েটার আর পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও যন্ত্রপাতির মতো মৌলিক মানও ঠিক করা আছে।
লাইসেন্সের ধরন ও ক্যাটাগরি
ডিজিএইচএস আলাদা লাইসেন্স দেয়:
- বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক (শয্যাসহ)।
- বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্যাথলজি ও ইমেজিং)।
- ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেক-আপ সেন্টার।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায় একটি ক্যাটাগরিতে। একটি নমুনা ক্যাটাগরি-সি প্যাথলজি লাইসেন্সে লেখা আছে, রক্ত সঞ্চালন ছাড়া সব প্যাথলজি টেস্ট করা যাবে, আর ক্যাটাগরির বাইরে কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। উচ্চতর ক্যাটাগরিতে বেশি টেস্টের অনুমতি থাকে, তবে প্যাথলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট ও রেডিওলজিস্টের মতো বেশি বিশেষজ্ঞ আর বেশি যন্ত্রপাতি লাগে। কর্মী, কক্ষ ও যন্ত্রের পরিকল্পনার আগেই ক্যাটাগরি ঠিক করুন, কারণ ক্যাটাগরিই তিনটা ঠিক করে দেয়।
ধাপে ধাপে লাইসেন্স করার নিয়ম
ধাপ ১: ব্যবসার মৌলিক কাগজ
- নির্দিষ্ট ঠিকানার জন্য সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স।
- টিআইএন ও আয়কর সনদ।
- জায়গার প্রমাণ: মালিকানার কাগজ বা ভাড়ার চুক্তি।
ধাপ ২: ছাড়পত্র নেওয়া
- পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত বা পরিবেশ ছাড়পত্র। শিল্প প্রতিনিধিরা বলেছেন এই ধাপেই প্রায়ই সবচেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই আগে শুরু করুন।
- মাদকজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে (যেমন হাসপাতালে) মাদক নিয়ন্ত্রণ লাইসেন্স, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের পরে।
- সেবার ধরন অনুযায়ী অন্য অনুমোদনও লাগতে পারে, যেমন এক্স-রে যন্ত্র বা ব্লাড ব্যাংকের জন্য। কোনগুলো আপনার লাগবে তা ডিজিএইচএস থেকে জেনে নিন।
ধাপ ৩: প্রতিষ্ঠান তৈরি করা
পরিদর্শনের আগেই জায়গা, কর্মী ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখুন:
- ফ্লোর প্ল্যানের সঙ্গে মেলে এমন কক্ষ ও বিন্যাস।
- আপনার ক্যাটাগরিতে যে ডাক্তার, টেকনোলজিস্ট ও নার্স লাগে, তাঁদের নিবন্ধনসহ (ডাক্তারের বিএমডিসি)।
- যে টেস্ট করবেন তার যন্ত্রপাতি।
- মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা।
ধাপ ৪: ডিজিএইচএসের এইচএসএম সিস্টেমে অনলাইনে আবেদন
আবেদন হয় অনলাইনে ডিজিএইচএসের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) সিস্টেমে, যার লিংক ডিজিএইচএসের ওয়েবসাইটে আছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড আগস্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে, লাইসেন্সের আবেদন হয় এইচএসএম ওয়েবসাইটে। কাগজপত্র আপলোড করে আবেদনের অবস্থা অনলাইনেই দেখা যায়।
ধাপ ৫: পরিদর্শন
সরকারি দল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে অনুমোদনের সুপারিশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিদর্শনে কর্মী, যন্ত্রপাতি, জায়গা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা, আর সেবা ক্যাটাগরির সঙ্গে মেলে কি না দেখা হয়েছে। দেখুন লাইসেন্স পরিদর্শনে কী দেখা হয়।
ধাপ ৬: লাইসেন্স পাওয়া, টাঙানো ও হালনাগাদ রাখা
অনুমোদনের পর লাইসেন্স দেওয়া হয় (নমুনাটি সিস্টেমে তৈরি, স্বাক্ষর লাগে না)। এতে থাকে লাইসেন্স নম্বর, ক্যাটাগরি, অনুমোদনের তারিখ ও মেয়াদ। লাইসেন্স প্রতিষ্ঠানে স্পষ্ট জায়গায় টাঙান, আর ডিজিএইচএসের নির্দেশমতো সাইনবোর্ডে লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদ লিখুন। দেখুন ক্লিনিক যে ডিজিএইচএস নিয়ম প্রায়ই এড়িয়ে যায়।
লাইসেন্সে ছাপা শর্ত
একটি নমুনা ডিজিএইচএস ডায়াগনস্টিক লাইসেন্সে যে শর্তগুলো আছে:
- শুধু লাইসেন্সের ক্যাটাগরির মধ্যে টেস্ট।
- লিখিত অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর নয়।
- অনুমতি ছাড়া নাম, ঠিকানা বা অবস্থান বদলালে লাইসেন্স অবৈধ।
- ১৯৮২-র অর্ডিন্যান্স বা বিএমডিসি আইন ভাঙলে লাইসেন্স অবৈধ।
- অনিয়মে ডিজিএইচএস লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে।
- মেয়াদ শেষের এক মাসের মধ্যে নবায়ন, নইলে মেয়াদ শেষের দিন থেকে বাতিল।
- লাইসেন্স স্পষ্ট জায়গায় টাঙাতে হবে।
মেয়াদ ও নবায়ন
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক ও মেডিকেল চেক-আপ সেন্টারের লাইসেন্স দুই বছরের জন্য, আর দুই বছরের ফি ও ভ্যাট একসঙ্গে দিতে হয়। পড়ুন দুই বছরের লাইসেন্সে কী বদলাল। মেয়াদ শেষের আগে একই এইচএসএম সিস্টেমে নবায়ন করুন।
দেরির সাধারণ কারণ
- পরিবেশ ছাড়পত্র এখনো পাওয়া যায়নি।
- কাগজ আপলোড হয়েছে কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ (যেমন মেয়াদ শেষ হওয়া ট্রেড লাইসেন্স)।
- আবেদনের তালিকায় এমন কর্মী যাঁরা আসলে কাজ করেন না।
- আবেদন করা ক্যাটাগরির বাইরের সেবার পরিকল্পনা।
লাইসেন্সের পর: ঠিকভাবে চালানো
লাইসেন্স কেবল শুরু। পরিদর্শন চলতেই থাকে, আর প্রতিদিন যে রেকর্ড রাখেন সেটাই পরিদর্শক দেখেন। নতুন সেন্টারের জন্য আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টার শুরুর চেকলিস্ট যন্ত্রপাতি, কর্মী ও সফটওয়্যারের কথা বলে। হসপিফাই প্রো-র ডায়াগনস্টিক প্ল্যান (মাসে Tk 6,500$149) কিউআর যাচাইসহ রিপোর্ট, টেস্টের তালিকা ও দাম, কর্মী ও বিল এক জায়গায় রাখে। এটি লাইসেন্সের আবেদন করে না বা মেয়াদ মনে করিয়ে দেয় না।
সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট
- ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও আয়কর সনদ।
- জায়গার প্রমাণ ও ফ্লোর প্ল্যান।
- পরিবেশ ছাড়পত্রের আবেদন আগেভাগে।
- সেবা অনুযায়ী মাদক নিয়ন্ত্রণ লাইসেন্স ও অন্যান্য অনুমোদন।
- ক্যাটাগরি ঠিক; সেই অনুযায়ী কর্মী ও যন্ত্রপাতি।
- ডিজিএইচএসের এইচএসএম সিস্টেমে আবেদন জমা।
- পরিদর্শনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত।
- লাইসেন্স টাঙানো; সাইনবোর্ডে নম্বর ও মেয়াদ।
- ক্যালেন্ডারে নবায়নের তারিখ।
Frequently asked questions
কোন আইনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের লাইসেন্স লাগে?
মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২। লাইসেন্স দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)। একটি প্যাথলজি সেন্টারের নমুনা লাইসেন্সে এই অর্ডিন্যান্সের ১০(৪) ধারার কথা লেখা আছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকের লাইসেন্সের আবেদন কোথায় করব?
অনলাইনে, ডিজিএইচএসের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) সিস্টেমে, যার লিংক ডিজিএইচএসের ওয়েবসাইটে আছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড আগস্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে, লাইসেন্সের আবেদন হয় এইচএসএম ওয়েবসাইটে। কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিয়ে আবেদনের অবস্থা অনলাইনেই দেখা যায়।
কোন কোন কাগজপত্র লাগে?
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত বা পরিবেশ ছাড়পত্র, আর মাদকজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ লাইসেন্স। সাধারণত জায়গার প্রমাণ (মালিকানা বা ভাড়ার চুক্তি), ফ্লোর প্ল্যান, যন্ত্রপাতির তালিকা আর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার ও টেকনোলজিস্টের তথ্যও চাওয়া হয়। বর্তমান তালিকা এইচএসএম সিস্টেমে দেখে নিন।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের ক্যাটাগরি কী?
ডিজিএইচএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ক্যাটাগরিভিত্তিক লাইসেন্স দেয়, যা কোন টেস্ট করা যাবে তা ঠিক করে। যেমন একটি নমুনা ক্যাটাগরি-সি প্যাথলজি লাইসেন্সে রক্ত সঞ্চালন ছাড়া সব প্যাথলজি টেস্টের অনুমতি আছে, আর ক্যাটাগরির বাইরে কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলা আছে। উচ্চতর ক্যাটাগরিতে বেশি টেস্টের অনুমতি, তবে বেশি বিশেষজ্ঞ ও যন্ত্র লাগে।
লাইসেন্সের মেয়াদ কত, আর কীভাবে নবায়ন করব?
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স দুই বছরের জন্য, আর দুই বছরের ফি ও ভ্যাট একসঙ্গে দিতে হয়। মেয়াদ শেষের আগে একই এইচএসএম সিস্টেমে নবায়ন করুন; নমুনা লাইসেন্সে লেখা আছে মেয়াদ শেষের এক মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে মেয়াদ শেষের দিন থেকেই লাইসেন্স বাতিল।
হসপিফাই প্রো কি লাইসেন্সের আবেদন করে দেয়?
না। হসপিফাই প্রো প্রতিষ্ঠান চালানোর সফটওয়্যার। এটি লাইসেন্সের আবেদন করে না বা মেয়াদ মনে করিয়ে দেয় না। তবে পরিদর্শনে যে রেকর্ড দেখা হয়, যেমন যাচাই করা রিপোর্ট, টেস্টের তালিকা, কর্মী ও বিল, সেগুলো গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
