এক সপ্তাহেই একজন ডাক্তার হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন থেকে ডিজিটালে যেতে পারেন। প্রথম দিন লেটারহেড আর প্রিয় ওষুধ সেট করুন, যে ওষুধে সেফটি চেক দরকার সেগুলো টাইপ করুন, বাকিটা ট্যাবলেটে হাতে লিখুন, আর পুরনো রোগীর জন্য ‘আগের প্রেসক্রিপশন আবার’ ব্যবহার করুন। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সবসময় পরিষ্কার পড়া যায়, রোগীর অ্যালার্জি ও ওষুধের মিথস্ক্রিয়া মিলিয়ে দেখা যায়, আর হোয়াটসঅ্যাপে রোগীর কাছে পাঠানো যায়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশনে ভুল ৪৩% থেকে নেমে ৭% হয়েছে, আর হাতে লেখার দলে ভুল ছিল প্রায় ৩৮%। হসপিফাই প্রো-র চেম্বার প্ল্যান মাসে Tk 1,499$24.99, তাতে আছে হাতে লেখার পাতা, এক ট্যাপে আগের প্রেসক্রিপশন, আর ফোন ভিউ।
এই গাইডে 10টি অংশ
বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডাক্তার এখনো হাতেই প্রেসক্রিপশন লেখেন, আর অনেকেই সেটা খুব দ্রুত করেন। ডিজিটালে যাওয়ার যুক্তি এই নয় যে হাতের লেখা খারাপ। যুক্তি হলো, একই কয়েক মিনিটে আপনি পাবেন পরিষ্কার একটি কপি, খুঁজে পাওয়ার মতো রোগীর ইতিহাস, একটি সেফটি চেক, আর রোগীর কাছে পাঠানোর সুযোগ। এই গাইডে দেখবেন ব্যস্ত চেম্বারে গতি না হারিয়ে কীভাবে বদলাবেন।
হাতে লেখা প্রেসক্রিপশনে কোথায় সমস্যা হয়
এগুলো নতুন কিছু নয়, তবে বছরের শেষে জমে অনেক বড় হয়:
- পড়তে না পারা। ফার্মাসিস্টকে আন্দাজ করতে হয়, বা ফোন করতে হয়, নয়তো রোগী ভুল পাওয়ারের ওষুধ নেন।
- ইতিহাস নেই। গত ভিজিটে কী দিয়েছিলেন দেখতে খাতা ঘাঁটতে হয় বা রোগীকে জিজ্ঞেস করতে হয়।
- কপি হারানো। রোগী কাগজ হারালে আপনার কাছে আর কিছু থাকে না।
- সতর্কতা নেই। রোগীর অ্যালার্জি বা ওষুধের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে কেউ আপনাকে সাবধান করে না।
- একই কাজ বারবার। পুরনো রোগী একই ওষুধে থাকলেও পুরো তালিকা আবার লিখতে হয়।
২০১০ সালে প্রকাশিত একটি মার্কিন গবেষণায় ১২টি কমিউনিটি প্র্যাকটিস তুলনা করা হয়। ১৫ জন চিকিৎসক ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করেছেন, আরও ১৫ জন হাতে লিখেছেন। ইলেকট্রনিক দলে ভুল ৪৩% থেকে নেমে ৭% হয়েছে, হাতে লেখার দলে ছিল ৩৭% থেকে ৩৮%, আর অস্পষ্ট লেখার সমস্যা পুরোপুরি মিটেছে (Weill Cornell Medicine)। এটি একটি দেশের একটি গবেষণা, আর সেখানে ‘ভুল’ বলতে অস্পষ্ট লেখার পাশাপাশি তথ্য বাদ পড়াও ধরা হয়েছে। তাই একে ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন, আপনার চেম্বারে ঠিক এমনই হবে এমন প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়।
বদলালে কী পাবেন
| হাতে লেখা | ডিজিটাল | |
|---|---|---|
| পরিষ্কার পড়া | দিন বুঝে বদলায় | সবসময় পরিষ্কার |
| রোগীর ইতিহাস | খাতা বা স্মৃতি | রোগী ডাকলেই পর্দায় |
| পুরনো রোগী | আবার লিখতে হয় | আগের প্রেসক্রিপশন আবার |
| অ্যালার্জি ও মিথস্ক্রিয়া চেক | আপনার মনে রাখার ওপর | সফটওয়্যার সতর্ক করে |
| আবার প্রিন্ট | সম্ভব নয় | যেকোনো সময় |
| রোগীর কাছে | কাগজের স্লিপ | কাগজ ও হোয়াটসঅ্যাপ |
| লেটারহেড ও কিউআর | আগে ছাপানো প্যাড | প্রতিবার ছাপা হয়, কিউআর দিয়ে যাচাই |
এক সপ্তাহে বদলানোর বাস্তব পরিকল্পনা
সবকিছু এক দিনে বদলাতে হবে না।
প্রথম দিন: সেটআপ (প্রায় এক ঘণ্টা)। আপনার নাম, ডিগ্রি, বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর চেম্বারের ঠিকানা দিন, যাতে লেটারহেড ঠিকভাবে ছাপা হয়। যে ৩০ থেকে ৫০টি ওষুধ সবচেয়ে বেশি লেখেন সেগুলো প্রিয় তালিকায় রাখুন। ওষুধ পুরো টাইপ না করে ব্র্যান্ড বা জেনেরিক নাম দিয়ে খুঁজুন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন: একটি চেম্বার, পাশে কাগজ। আগে ফলো-আপ রোগীদের জন্য ব্যবহার করুন, কারণ তাদের ইতিহাস আর ওষুধ পর্দায় তৈরি থাকে। যেটা হাতে লিখলে দ্রুত হয়, সেটার জন্য কাগজের প্যাড পাশে রাখুন।
চতুর্থ ও পঞ্চম দিন: সব রোগী। এখন প্রিয় ওষুধ আর টেমপ্লেটের কারণে বেশিরভাগ ভিজিট কয়েক ট্যাপে হয়ে যাওয়ার কথা। প্রতিদিন যা দেখেন, যেমন জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস বা চর্মরোগ, সেগুলোর টেমপ্লেট বানান।
ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন: বাকিটা সহকারীর হাতে। সিরিয়াল, ফি আর প্রিন্ট সহকারীর লগইনে চলে যাবে, আপনার পর্দায় থাকবে শুধু সামনের রোগী।
গতি ধরে রাখার পাঁচটি শর্টকাট
১. আগের প্রেসক্রিপশন আবার। একই চিকিৎসায় থাকা পুরনো রোগীর জন্য এটি আগের প্রেসক্রিপশন কপি করে, শেষ করে, আর রোগীকে ‘দেখা হয়েছে’ চিহ্নিত করে। রোগী এখন যে ওষুধে অ্যালার্জিক, সেটি বাদ দেয়, আর গুরুতর সতর্কতা এলে থেমে আপনাকে দেখে নিতে বলে। আগের ভিজিটের পর কিছু বদলে থাকলে পূর্ণ পর্দায় লিখুন। ২. প্রিয় ওষুধ ও টেমপ্লেট। যে ওষুধের সমন্বয় সবচেয়ে বেশি দেন, রোগ অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। ৩. পরামর্শের সাজেশন। রোগনির্ণয় বাছলে বাংলা বা ইংরেজিতে তৈরি পরামর্শ আসে। ট্যাপ করে যোগ করুন, দরকারমতো বদলান। ৪. ফোন ভিউ। ফোন থেকেই লাইন চালান: কে অপেক্ষায় আছেন দেখুন, পরের রোগীকে ডাকুন, আর শেষ হওয়া প্রেসক্রিপশন হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। আলাদা অ্যাপ ইনস্টল লাগে না। ৫. ল্যাব ট্রেন্ড। রোগীর আগের ফলাফল ছোট ট্রেন্ড লাইনে দেখা যায়, তাই HbA1c বা ক্রিয়েটিনিন বাড়ছে কি না এক নজরে বোঝা যায়।
কলম ছাড়তে হবে না
টাইপের চেয়ে হাতে লেখা দ্রুত হলে সেটা ছাড়ার দরকার নেই। স্টাইলাসসহ ট্যাবলেট বা টাচস্ক্রিন ল্যাপটপে হসপিফাই প্রো-র হাতে লেখার পাতা ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন লিখুন। টাইপ করা ওষুধের নিচে সেটি আপনার লেটারহেডে ছাপা হবে, সঙ্গে থাকবে রোগীর তথ্য, তারিখ, কিউআর কোড আর আপনার স্বাক্ষর।
একটি ভালো নিয়ম: যে ওষুধে সেফটি চেক দরকার সেগুলো টাইপ করুন, কারণ অ্যালার্জি ও মিথস্ক্রিয়ার চেক টাইপ করা ওষুধ পড়ে। নির্দেশনা, আঁকা ছবি আর অস্বাভাবিক কিছু হাতে লিখুন। শেষ হওয়া প্রেসক্রিপশনে ভুল সংশোধন করতে প্রেসক্রিপশন সংশোধন ব্যবহার করুন। নম্বর একই থাকে, আর প্রিন্টে ‘সংশোধিত’ লেখা থাকে।
ধাপে ধাপে স্ক্রিন দেখতে পড়ুন ফোন ভিউ ও হাতে লেখার গাইড আর পূর্ণ ডাক্তারের চেম্বার গাইড।
প্রেসক্রিপশন সফটওয়্যারে কী দেখবেন
- আপনার নিজের লেটারহেড, ডিগ্রি ও বিএমডিসি নম্বরসহ, প্রতিবার ছাপা হবে।
- দ্রুত এন্ট্রি: প্রিয় ওষুধ, টেমপ্লেট, আগের প্রেসক্রিপশন আবার, ব্র্যান্ড বা জেনেরিক নামে খোঁজা।
- অ্যালার্জি ও গুরুতর মিথস্ক্রিয়ার সেফটি চেক।
- হাতে লিখতে চাইলে হাতে লেখার সুবিধা।
- ভিজিটের সময় কয়েক সেকেন্ডে খোলা যায় এমন রোগীর ইতিহাস।
- প্রেসক্রিপশনের হোয়াটসঅ্যাপ ডেলিভারি।
- টাকা দেওয়ার আগে অন্তত এক সপ্তাহ আসল চেম্বারে চালানোর মতো ট্রায়াল।
আরও বিস্তারিত তুলনা আছে বাংলাদেশে ডাক্তারের চেম্বার সফটওয়্যার গাইডে। চেম্বার প্ল্যানে কী কী আছে দেখুন ডাক্তারের চেম্বার পাতায়, আর স্ক্রিনগুলো দেখুন ওপিডি ও ই-প্রেসক্রিপশন পাতায়।
খরচ কত
হসপিফাই প্রো-র চেম্বার প্ল্যান মাসে Tk 1,499$24.99। একজন ডাক্তার ও দুইজন সহকারীর লগইন, ১৪ দিনের ফ্রি ট্রায়াল, কার্ড লাগে না। অ্যাড-অন দেখতে মূল্য তালিকা দেখুন।
আসল চেম্বারের মতো করে চালিয়ে দেখুন
লাইভ চেম্বার ডেমো খুলে ডাক্তার হিসেবে ঢুকুন, আর একটি প্রেসক্রিপশন লিখুন: টাইপ করে, আগেরটি আবার করে, আর হাতে লিখে। পাঁচ মিনিট লাগে, সাইন-আপ লাগে না।
সূত্র
Frequently asked questions
বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কি বৈধ?
বাংলাদেশে অনেক ডাক্তারই কম্পিউটারে তৈরি প্রেসক্রিপশন নিজের লেটারহেডে প্রিন্ট করে দেন। তবে নিয়ম বদলাতে পারে। স্বাক্ষর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে নিশ্চিত হতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বা আপনার পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলুন।
টাইপ করতে গেলে কি ব্যস্ত চেম্বারে দেরি হবে?
প্রথম কয়েক দিন একটু হতে পারে। প্রিয় ওষুধ, টেমপ্লেট, পরামর্শের সাজেশন আর পুরনো রোগীর জন্য এক ট্যাপে আগের প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করলে সময় ফিরে আসে। টাইপের চেয়ে হাতে লেখা দ্রুত হলে ট্যাবলেটে হাতে লিখুন, আর শুধু সেফটি চেক লাগে এমন ওষুধ টাইপ করুন।
আমি কি হাতে লেখা চালিয়ে যেতে পারব?
পারবেন। হসপিফাই প্রো-তে হাতে লেখার পাতা আছে, স্টাইলাস বা আঙুল দিয়ে লিখতে পারবেন। হাতের লেখা টাইপ করা ওষুধের নিচে আপনার লেটারহেডে ছাপা হয়, সঙ্গে থাকে রোগীর তথ্য, তারিখ, কিউআর কোড আর আপনার স্বাক্ষর।
ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন কীভাবে রোগীর নিরাপত্তা বাড়ায়?
লেখা সবসময় পরিষ্কার থাকে, রোগীর নথিভুক্ত অ্যালার্জি দেখা যায়, আর গুরুতর ওষুধের মিথস্ক্রিয়ায় সফটওয়্যার সতর্ক করতে পারে। হসপিফাই প্রো-তে এই চেক টাইপ করা ওষুধের ওপর কাজ করে, তাই যেগুলো চেক করা দরকার সেগুলো টাইপ করুন।
রোগী কি ফোনে প্রেসক্রিপশন পাবেন?
হ্যাঁ। শেষ হওয়া প্রেসক্রিপশন হোয়াটসঅ্যাপে রোগীর কাছে পাঠানো যায়, ফলে কাগজ হারালেও সমস্যা নেই। আপনার লেটারহেডে প্রিন্টও আগের মতোই থাকে।
প্রেসক্রিপশন সফটওয়্যারের খরচ কত?
হসপিফাই প্রো-র চেম্বার প্ল্যান মাসে Tk 1,499$24.99। একজন ডাক্তার ও দুইজন সহকারীর লগইন, ১৪ দিনের ফ্রি ট্রায়াল, কার্ড লাগে না। সঙ্গে সিরিয়াল, বিলিং আর বুকিং পেজও আছে।
পুরোপুরি বদলাতে কত দিন লাগে?
প্রায় এক সপ্তাহ। প্রথম দিন সেটআপ, তারপর কয়েকটি চেম্বার পাশে কাগজের প্যাড রেখে নতুন সিস্টেমে, তারপর পুরোপুরি ব্যবহার। স্বচ্ছন্দ না হওয়া পর্যন্ত কাগজের প্যাড কাছে রাখুন।
